যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

আজ ৬ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট

আজ ৬ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস মহামারীর মতো সংকটময় মুহূর্তে বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রেকর্ড পরিমাণ বাজেট ঘাটতি নিয়ে সরকারের আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেই সীমিত সম্পদ নিয়েই আগামী এক বছরের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। এবারই প্রথম বাজেট ঘাটতি মোট জিডিপির ৬ শতাংশ অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তার পরও বিশাল ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে কৃষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীসহ সব পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে মরিয়া অর্থমন্ত্রী। এজন্য করের জাল বিস্তৃত করে এবং নতুন করের বোঝা না চাপিয়ে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটানোর বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন তিনি। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এ বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতকে।

এ ছাড়া আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল থাকছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় থাকছে বিশেষ বরাদ্দ। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা করতে করপোরেট করহার কমানো হচ্ছে। আওতা বাড়বে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির। বিভিন্ন খাতে চলমান কর অবকাশের মেয়াদ ও আওতা বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল অর্থমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী বাজেটে প্রাধিকার পাবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামের এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে। এবারের বাজেটে সংগত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। পাশাপাশি কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়ন, কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের পুরো সময়জুড়েই থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বাড়ানো হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা। এতে আরও বলা হয়, বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd-এ বাজেটের সব তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবে এবং দেশ বা বিদেশ থেকে ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময় ও পরে তা কার্যকর করা হবে।

বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাবই নয়, যে কোনো রাজনৈতিক সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তিও। সে আলোকে বাজেট বক্তৃতাও সাজিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এটি আ হ ম মুস্তফা কামালের তৃতীয় এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৩তম বাজেট। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ এক যুগের সাফল্য-ব্যর্থতার চিত্র থাকবে বাজেট বক্তৃতায়। শুধু তাই নয়, আগামী বছরটি কীভাবে চলবে, জনগণকে কষ্ট না দিয়ে কীভাবে আয়বর্ধক কর্মসূচি নেওয়া যায় তারও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রায় দেড় বছর ধরে চলা করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে দেশের বেশির ভাগ মানুষের আয় কমেছে। নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন আড়াই কোটি মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ লোক। ফলে বাড়ানো হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা। একইভাবে কর্মহীনদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে থাকছে পৃথক কর্মসূচিও, যা অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরবেন।
বিশাল আকারের এ বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে মানুষের জীবন ও জীবিকা। করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে কিছু না কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবেন অর্থমন্ত্রী। করোনা মহামারীর কারণে মানুষের আয় যেমন কমেছে, তেমন সরকারেরও আয় কমেছে। ফলে রাজস্ব ঘাটতি বেড়েছে। ফলে বাজেট ঘাটতিতে সৃষ্টি হবে নতুন রেকর্ড। আর সে ঘাটতি মোকাবিলায় এবার কৌশল পরিবর্তন করে অভ্যন্তরীণ উৎসের চেয়ে বৈদেশিক উৎসের প্রতি নির্ভরতা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন অর্থমন্ত্রী। নতুন করে করের জাল বিস্তৃত করে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। আগামী অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের মূল আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য করোনা বাস্তবতায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। বিশাল পরিমাণ এ ব্যয়ের বিপরীতে মোট আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর মোট আয় ধরা হয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে আয় বাড়ছে ১১ হাজার কোটি টাকা। মোট আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া আগামী বাজেটে এনবিআর-বহির্ভূত কর থেকে আসবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হচ্ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বাজেটে প্রবৃদ্ধির এ হার ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে মোট জিডিপির আকার ধরা হচ্ছে ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) অনুমোদন দিয়েছে। চলতি বছরের বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com